শুরুটা তিনটি কম্পিউটার দিয়ে। এখন দুইশো চল্লিশের বেশি।
২০০০ সালের ১০ অক্টোবর বগুড়ায় সাইবারটেকের পথচলা শুরু — সঙ্গে ছিল একটি শ্রেণিকক্ষ আর তিনটি কম্পিউটার। ছাব্বিশ বছর পর সেই ছোট কেন্দ্রটিই দেশের বৃহত্তম স্বতন্ত্র কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। নিচে সেই পথের হিসাব রইল — বছর ধরে ধরে, বাছাই করা সাফল্যের তালিকা নয়।
কারিগরি শিক্ষার জন্য ঢাকায় যেতে হবে — এই ধারণাটাই ভাঙতে চেয়েছিলাম।
প্রতিষ্ঠানটি দাঁড়িয়েছিল একটি বিশ্বাসের ওপর: মানসম্মত অথচ সাশ্রয়ী কারিগরি শিক্ষা বগুড়াতেও হতে পারে, আর একটি সনদের দাম ঠিক ততটুকুই — যতটা দাম তার পেছনের বোর্ডের। এরপর যা কিছু হয়েছে, সবই এই ভাবনা থেকে: অনুমোদনের পেছনে ছোটা, নতুন ট্রেড যোগ করা, বগুড়া থেকে জয়পুরহাট ও রংপুর পর্যন্ত কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া।
ছাব্বিশ বছরের হিসাব, খতিয়ানের পাতায়।
আমাদের শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি যেভাবে লেখা হয়, এই তালিকাও ঠিক সেভাবেই পড়া যায় — টার্মে টার্মে, পরীক্ষায় পরীক্ষায়। ধীর বছরগুলোও বাদ দেওয়া হয়নি।
১০ অক্টোবর ২০০০। বগুড়ায় তিনটি কম্পিউটার নিয়ে শুরু হয় সাইবারটেকের পথচলা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ইউনিট হিসেবে ভেন্ডর সার্টিফিকেশন চালু হয়। আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম প্রথমবারের মতো এই জেলায় পৌঁছায়।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা — সাইবারটেককে প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদন দেয়।
বিটিইবি অনুমোদনদেশি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী কর্পোরেট প্রশিক্ষণ শুরু হয়। শিক্ষার্থীর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও হয়ে ওঠে সাইবারটেকের কাজের ক্ষেত্র।
মানসম্পন্ন ও স্বতন্ত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত হয় সাইবারটেক।
কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ে। যুক্ত হয় নতুন ট্রেড ও নতুন কোর্স অধিভুক্তি।
একাধিক ভাষায় নিজস্ব বই ও কোর্সওয়্যার প্রকাশ করা হয়। গড়ে ওঠে আলাদা কোর্সওয়্যার উন্নয়ন প্যানেল ও শিক্ষক ইউনিট।
পেশাজীবী ও উচ্চশিক্ষার্থীদের জন্য পাঠক্রম বিস্তৃত হয়। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য চালু হয় ক্যাডেট-ধাঁচের প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় থেকে আন্তর্জাতিক — সব স্তরের চাকরির প্রস্তুতি এক ছাদের নিচে আসে। সরকারি চাকরি ও বিসিএস প্রার্থীদের জন্য শুরু হয় প্রকাশনা ও দিকনির্দেশনা।
সরকারি পেশাগত প্রশিক্ষণের জন্য দেশের প্রথম বেসরকারি ক্যাডেট-ধাঁচের প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ শুরু করে সাইবারটেক।
নিজস্ব প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় অনসাইট প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার ছাড়ায়। চালু হয় আলাদা চাকরি-সহায়তা সেল, আর শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক প্রযুক্তি প্রকাশনা ‘ব্রেইন-ব্যাংক’।
৫০,০০০ শিক্ষার্থীজাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়। এরপর কোভিড-১৯ মহামারিতে কাজের গতি কমে আসে।
অনলাইনে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা চালু হয়। এটুআই-এর সঙ্গে দেশজুড়ে কারিগরি সহায়তা ও শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকে সাইবারটেক।
এনএসডিএ নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। দক্ষতা প্রদানকারী ও মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সক্ষমতা বাড়ে।
এনএসডিএ নিবন্ধিতকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আগামী দিনের দক্ষতা প্রতিষ্ঠানের পাঠক্রমে যুক্ত করার কাজ চলছে। একে আমরা সম্পন্ন অর্জন বলছি না — এটি চলমান প্রতিশ্রুতি।
চলমানঅভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলা, আর আগামীর জন্য প্রস্তুতি।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আমাদের উদ্দেশ্য বদলায়নি — শেখাকে দক্ষতায়, আর দক্ষতাকে সম্মানজনক কাজে পরিণত করা।
আগামী দিনে আমাদের মনোযোগ চারটি জায়গায় — প্রশিক্ষণের মান যেন মেপে দেখা যায়, নতুন প্রযুক্তি যেন দায়িত্ব নিয়ে ব্যবহার করা হয়, ক্যারিয়ারের পথ যেন আরও স্পষ্ট হয়, আর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম যেন সুশৃঙ্খল থাকে।
এখানে দেওয়া প্রতিটি বড় প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তবে রক্ষা করা যায়, সেটাই আমাদের চাওয়া। যে ব্যবস্থা এখনো গড়ে উঠছে, সেটির কথা আমরা খোলাখুলি বলি — সম্পন্ন সনদ বা যাচাই করা অর্জন বলে চালিয়ে দিই না।
এই বিবরণে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিকে ইচ্ছে করেই একটি চলমান যাত্রা হিসেবে দেখানো হয়েছে — শেখা, পুনর্বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি আর সেবার মান উন্নয়নের যাত্রা। নিখুঁত হওয়ার ভিত্তিহীন দাবি হিসেবে নয়।
সনদের দাম ঠিক ততটুকুই, যতটা দাম তার পেছনের বোর্ডের।
সাইবারটেকের সনদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে তিনটি সংস্থা। আর শিক্ষকতা-ট্র্যাকের অ্যাডভান্সড সার্টিফিকেট কোর্সের ক্ষেত্রে যুক্ত হয় চতুর্থটি — বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
২০০৩ সাল থেকে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা কেন্দ্র।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
৪১টি অনুমোদিত ট্রেডে নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রদানকারী।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
সরকার ও শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত।
শিক্ষকতা-ট্র্যাকের অ্যাডভান্সড সার্টিফিকেট কোর্সগুলো (আইসিটি ও চারুকলা) সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ কর্তৃকও স্বীকৃত।